বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী ২৭ অগাস্ট।
তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য তিনি।
বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন।
তার ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া।’ নজরুলের বয়স যখন নয় বছর তখন তার বাবা মারা যান। পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয় এবং মাত্র দশ বছর বয়সে তাকে জীবিকা অর্জনের জন্য কাজে নামতে হয়। এসময় নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন। একই সাথে হাজি পালোয়ানের কবরের সেবক এবং মসজিদের মুয়াযযিন হিসেবে কাজ শুরু করেন। মক্তব, মসজিদ ও মাজারের কাজে নজরুল বেশি দিন ছিলেন না। ছোটবেলা থেকেই লোকশিল্পের প্রতি আকর্ষণ তিনি এসব কাজ ছেড়ে একটি লেটো দলে যোগ দেন।
১৯১০ সালে লেটো গানের দল ছেড়ে দিয়ে রাণিগঞ্জ সিয়ারসোল স্কুলে ভর্তি হন তিনি। এরপর মাথরুন স্কুলে ভর্তি হলেও আর্থিক অনটনের কারণে আসানসোলে রুটির দোকানে কাজ নেন।
দোকানে কাজ করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লাহর সঙ্গে পরিচয় হয় কবির। সেই দারোগা তাকে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে দরিরামপুর স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন।
১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায় যান। প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন প্রায় আড়াই বছর।
যুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে নজরুল ৩২নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন। তার সাথে থাকতেন এই সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা মুজফ্ফর আহমদ। এখান থেকেই তার সাহিত্য-সাংবাদিকতা জীবনের মূল কাজগুলো শুরু হয়। প্রথম দিকেই মোসলেম ভারত, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, উপাসনা প্রভৃতি পত্রিকায় তার কিছু লেখা প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস বাঁধন হারা এবং কবিতা বোধন, শাত-ইল-আরব, বাদল প্রাতের শরাব, আগমনী, খেয়া-পারের তরণী, কোরবানি, মোহরর্ম, ফাতেহা-ই-দোয়াজদম। এই লেখাগুলো সেসময় সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলনের সময় কবি কুমিল্লায় ছিলেন। তখন তিনি কুমিল্লা থেকে কিছুদিনের জন্য দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে থেকে আবার কুমিল্লা ফিরে যান। এখানে যতদিন ছিলেন ততদিনে তিনি পরিণত হন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীতে। তার মূল কাজ ছিল শোভাযাত্রা ও সভায় যোগ দিয়ে গান গাওয়া। এখানে ১৭ দিন থেকে তিনি স্থান পরিবর্তন করেছিলেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে আবার কুমিল্লায় ফিরে যান। ২১ নভেম্বর ছিল সমগ্র ভারতব্যাপী হরতাল। এ উপলক্ষে নজরুল আবার পথে নেমে আসেন; অসহযোগ মিছিলের সাথে শহর প্রদক্ষিণ করেন আর গান করেন, “ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী”- নজরুলের এ সময়কার কবিতা, গান ও প্রবন্ধের মধ্যে বিদ্রোহের ভাব প্রকাশিত হয়েছে।
কাজী নজরুল ইসলাম স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, ডি.লিট উপাধিসহ নানা পুরস্কার এবং সম্মামনা পেয়েছেন।

Winner 
attended workshop on Training on Techniques of Child Participation in Electronic Media’ & `Follow up Training and Mentoring of Children Participating in Electronic Media(Part-I & II)’ under the `Advocacy and Communication for Children and Women (4th Phase) project held at Dhaka from arranged by National Institute of Mass Communication, Dhaka, Ministry of Information.
