সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম অফিসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক হ্যালোর মুখোমুখি হন। এ সময় তিনি দেশের শিক্ষা মাধ্যমে প্রযুক্তি আর অনলাইন ব্যবহার প্রসঙ্গে শিশু সাংবাদিক শেখ শরফুদ্দিন রেজা ও পৃথা প্রণোদনা সঙ্গে কথা বলেন।
হ্যালো: অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা অর্থাৎ ই-লার্নিং নিয়ে জানতে চাই।
জুনায়েদ আহমেদ পলক: ই-লার্নিংকে আমাদের অবশ্যই উৎসাহিত করা উচিত। শিক্ষাকে যদি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আনন্দদায়ক ও সহজ করতে অনলাইন লার্নিং প্লাটফর্মকে অনেক ডেভেলপ করা দরকার।
হ্যালো: ই-লার্নিংয়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কেমন?
জুনায়েদ আহমেদ পলক: আমাদের প্রিন্টেড ভার্সনে যত বই আছে, সেগুলোকে ডিজিটাল ভার্সনে নিয়ে আসা। আমরা চাচ্ছি যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অংক, ইংরেজি, বিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রোগ্রামিং এবং কোডিংয়েও দক্ষ করে গড়ে তুলতে। সে জন্যে, আমরা ই-শিক্ষা ডট নেট (http://www.eshikkha.net) নামের একটি ওয়েব সাইট ডেভেলপ করেছি, যেখানে অনলাইনেই শেখার ব্যবস্থা রয়েছে।
ছোটোরা যাতে শুধু মাত্র অনলাইনে গেইমস খেলে কিংবা ফেইসবুকিং করে সময় অপচয় না করে সেজন্যে সাইন্স, ম্যাথ, প্রোগ্রামিং, কোডিংকে সহজ করে অনলাইন প্লাটফর্মে আইসিটি ডিভিশন থেকে কিছু গেইম ডেভেলপ করা হচ্ছে। অর্থাৎ ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট গেইম। এছাড়া অনলাইনে গেইম ও অ্যাপস ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় বেশ কিছু মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও গেম ডেভলপ তৈরি হচ্ছে।
হ্যালো: অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের সফলতা জানতে চাই।

ই-লার্নিং নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন শিশু সাংবাদিক শেখ শরফুদ্দিন রেজা
জুনায়েদ আহমেদ পলকঃ আমরা প্রাইমারি এডুকেশনের প্রায় ২১টি ন্যাশনাল কারিকুলাম অনুসরণ করে টেক্সটবুকগুলোকে ডিজিটাল ইন্টারেকটিভ মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টে রূপান্তর করা হয়েছে।
আমরা এখন চিন্তা করছি, প্রাইমারির পরে সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি লেভেলেও ন্যাশনাল কারিকুলামের অনুসরণ করে প্রিন্টেড ভার্সন বইগুলোকে ডিজিটাল ইন্টারেকটিভ মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টে রূপান্তরিত করা হবে। এতে করেআমাদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির বৈষম্য দূর করা সহজ হবে।
হ্যালো: স্কুল ও কলেজে বইয়ের বদলে ই-বুকের ব্যবহার করা যেতে পারে কি?
জুনায়েদ আহমেদ পলক: অবশ্যই করা যেতে পারে। কারণ, একটা বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে– আমাদের সরকার বছরের প্রথম দিনে ৩৮ কোটি বই দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে ৩,৯০১ টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। আমরা চাই, কীভাবে ডিজিটাল প্লাটফর্মে শিক্ষার কনটেন্ট গুলোকে আরো সহজলভ্য করা যায়। ইদানিংতো ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমেও নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হ্যালো: বর্তমান সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে, অনেক স্কুলে এগুলোর যথাযথ ব্যবহার নেই।
জুনায়েদ আহমেদ পলক: ২০০৮ সালের আগে কোনো স্কুল কিংবা কলেজে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস বা কম্পিউটার ল্যাব ছিল না। এমনকি আইসিটি বিষয়টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লাস সিক্স থেকে টুয়েলেভ পর্যন্ত কম্পালসারি করেছেন। সেই আইসিটি বিষয়টাও কিন্তু ছিল না, নতুন ভাবে আনা হয়েছে।
শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাবও কিছুদিন হলো স্থাপন করা হয়েছে। ফলে, আমি বিশ্বাস করি যে, যথাযথ নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে আইসিটি ক্লাবের মাধ্যমে এই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাবগুলোর ব্যবহার হবে।
আমরা লক্ষ্য করি, অনেক স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে যেতে কিংবা কম্পিউটার ল্যাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেন না। এজন্য প্রত্যেক শিক্ষককে সচেতন করা হচ্ছে।
ইন্টারনেটে যদি শিশুদেরকে সংযুক্ত করা না হয়, সারা বিশ্বের সাথে তাদের পরিচয় না হয়, তাহলে বিশ্ব থেকে পিছিয়ে পড়বে এরা। তাই, আমি আশা করব, শিক্ষক ও অভিভাবকরা ইন্টারনেটের ভালো দিকগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করবেন।
হ্যালো: আপনার অনেক মূল্যবান সময় নিলাম আমরা। ধন্যবাদ।
জুনায়েদ আহমেদ পলক: ধন্যবাদ তোমাদেরকেও।
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে হ্যালোডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে, প্রকাশকাল: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

Winner 
attended workshop on Training on Techniques of Child Participation in Electronic Media’ & `Follow up Training and Mentoring of Children Participating in Electronic Media(Part-I & II)’ under the `Advocacy and Communication for Children and Women (4th Phase) project held at Dhaka from arranged by National Institute of Mass Communication, Dhaka, Ministry of Information.
