হারিয়ে যাওয়া জাহাজ বা অতল সমুদ্রে ডুবে যাওয়া গুপ্তধনের খোঁজে বছরের পর বছর সমুদ্রে ভেসে বেড়ানোর গল্প আমরা রূপকথার বইয়ে পড়ি। বাস্তবে যে এমন ঘটনা ঘটেনা তা নয়।
এবছরের ৫ মে সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫০ বছর আগের হারিয়ে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে প্রায় একহাজার আউন্স পরিমাণ সোনা খুঁজে পেয়েছে ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে বেড়ানো কোম্পানি ‘ওডেসিস’।
‘এসএস সেন্ট্রাল আমেরিকা’ নামের জাহাজটি ১৮৫৭ সালে হ্যারিকেন ঝড়ের কবলে পড়ে প্রায় ৪২৫ জন যাত্রী ও প্রায় হাজার পাউন্ড সোনা নিয়ে সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিলো।
৮০-র দশকের শেষের দিকে এবং ৯০-র দশকের প্রথম দিকে ধারণা করা হয়েছিলো হারিয়ে যাওয়া সোনার দাম হবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।
ওডেসিস কোম্পানি আশা করছে তারা বিপুল পরিমাণে সোনা খুঁজে পাবে জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে।
সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া ‘এস এস সেন্ট্রাল আমেরিকা’ ছিল কাঠের তৈরি, বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালিত প্রায় ২৮০ ফুট লম্বা একটি জাহাজ।
এটি কয়েকশো যাত্রী, আনুমানিক ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনার বার ও স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউইয়র্ক যাত্রা করে। যাত্রা পথে এটি হারিক্যান ঝড়ের কবলে পড়ে। জাহাজটি ঝড় মোকাবেলা করতে না পেরে ১৮৫৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দক্ষিন ক্যারোলিনা সমুদ্র উপকূল থেকে প্রায় ১৬০ মাইল দূরে ডুবে যায়।
জাহাজটিতে কয়েকশো ক্যারেট সোনা ছাড়াও আমেরিকার জন্য মুদ্রিত নতুন ২০ ডলার মূল্যের বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা ছিলো।
এছাড়া যারা ক্যালিফোর্নিয়ার সোনার খনিতে ঘুরতে এসেছিলো তারা নিজেদের সাথে কাঁচা সোনারদানা ও অনেক সোনার মুদ্রা নিয়ে যাচ্ছিল। জাহাজ ডুবির এই দুর্ঘটনা ১৮৫৭ সালের আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দাকে বাড়িয়ে তুলেছিল।
জাহাজ ডুবির কিছু পড়েই আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এটির ভয়াবহতায় অনেকেই হারিয়ে যাওয়া জাহাজটির কথা প্রায় ভুলে যায়।
এরপর ১৯৮০ সালে হারিয়ে যাওয়া সেই জাহাজ ও তাতে থাকা বিপুল ধন সম্পদ খুঁজতে ওহিয়ো’র টমি থমসন আভিযান চালান। থমসন ও তার সহযোগী দল ‘কলোম্বাস -আমেরিকা-ডিসকভারি গ্রুপ’ হারিয়ে যাওয়া জাহাজের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে গবেষনা করেন।
১৯৮০ সালে দলটি হারিয়ে যাওয়া জাহাজটির অবস্থান খুঁজে পায় এবং এতে থাকা মূল্যবান সোনা সংগ্রহ করতে থাকে। পরে একটি সরকারি হস্তক্ষেপে তাদের এ অভিযান বন্ধ করতে হয়।
ওডেসিস কোম্পানী জাহাজের সোনা উদ্ধার করতে গিয়ে প্রায় ১০৬-১৩৪ আউন্সের ৫ টি সোনার বার ও ২০ ডলার মূল্যের দুটি সোনার কয়েন খুঁজে পেয়েছে।

‘এস এস সেন্ট্রাল আমেরিকা’ ছাড়া সমুদ্রের নিচে আর কি কি আছে তা খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশিত হবে। আর গুপ্তধনের অন্যান্য রুপকথার মত এখানেও হয়তো বা গুপ্তধনের গল্পটা শেষ হয়ে যাবে।

Winner 
attended workshop on Training on Techniques of Child Participation in Electronic Media’ & `Follow up Training and Mentoring of Children Participating in Electronic Media(Part-I & II)’ under the `Advocacy and Communication for Children and Women (4th Phase) project held at Dhaka from arranged by National Institute of Mass Communication, Dhaka, Ministry of Information.
