ছোট থেকেই নতুন বছরের শুরু হতেই অপেক্ষায় থাকতাম ‘ফেব্রুয়ারি’ মাসের। আর এই অপেক্ষার মূল কারণ ছিল ‘বইমেলা।’
ছোটবেলায় মন চাইলেই বাবার সাথে হুট করে চলে যেতাম বইমেলায়। বাবার হাত ধরে টই টই করে ঘুরে বেড়াতাম পুরো মেলার প্রাঙ্গন। ‘বাবা, এই বইটা কিনব,’ ‘বাবা, দেখো দেখো এই বইটা কী সুন্দর না? কিনে দাও না আমাকে প্লিজ। বাবা যদি তখন ‘না’ বলতেন, তখন পাশ থেকে দোকানের আঙ্কেল বলতেন, ‘খুব মজার হবে বইটা।’ আঙ্কেলের ওই কথা শুনে বই না কেনার দু:খ আরো বেড়ে যেত আর আমি কান্না শুরু করে দিতাম। বাবা তখন কিছু বলতে পারতেন না। তবে এমন খুব কমই হয়েছে আমি বই চেয়েছি আর বাবা দেননি।
ছোটবেলায় গেলেই দেখতাম পাঠকদের উপচে পড়া ভীড়। কে কার আগে কোন বই কিনবে যেন একটা প্রতিযোগিতা লেগে থাকত সবার মধ্যে। এমনও হতো যে বইমেলায় যাওয়ার পর আমার সাথে প্রায় আমার তিন-চারজন বন্ধুদের দেখা হয়ে যেত। কিন্তু ছোটবলায় দেখা আমার বইমেলা আর বর্তমানের বইমেলার মধ্যে আমি একটা বড় পার্থক্য খুজেঁ পাই।
ছোটবেলায় বইমেলায় গেলেই দেখা যেত পাঠক সমাবেশ। আর এখনো বইমেলায় ঠিক আগের মতোই ভীড় জমে, কিন্তু তা ঠিক বই কেনার জন্য না। অধিকাংশ মানুষই বইমেলায় আসে কেবলমাত্র বই দেখতে, কিনতে নয়। অনেকে আবার বইমেলায় আসে কেবলমাত্র হাঁটাহাঁটি করতে, সময় কাটাতে। অর্থাৎ, বলা যায় যে, পাঠকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কিন্তু এর কারণ কী? আসলে কী লেখকের মান কমে গেছে নাকি লেখকরা পাঠকদের রুচি অনুযায়ী লিখছেন না? নাকি লেখকের একটি বড় অংশ কেবলমাত্র লেখক পরিচয়ের জন্য বই লিখছেন? অথচ যদি আমরা পর্যবেক্ষণ করি, তাহলে দেখা যায় যে, লেখকের সংখ্যা আগের তুলনায় অধিক হারে বেড়েছে।
আগে বইমেলায় গেলে, একটা বই কেনার পর যখন সেই বইয়ের লেখকের একটা অটোগ্রাফ নিতে চাইতাম, তখন লেখককে খুজঁতে খুজঁতেই অবস্থা খারাপ হয়ে যেত।
অনেকসময় এমনও হতো যে শত খোঁজার পরে শোনা যেত যে, লেখক মেলাতেই নেই। আর এখনকার বইমেলায় ঠিক উল্টোটা ঘটে। বই কেনার পরেই দেখা যায় যে, লেখক আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন নিজের অটোগ্রাফ দেওয়ার জন্য! আমার দেখা ঘটনায় এমনও হয়েছে যে, লেখক নিজে তার পাবলিকেশনে এসে দেখে যাচ্ছেন যে, তার কয়টা বই বেচা হয়েছে!
কিন্তু শুধুমাত্র কী বানিজ্যিক কারণে, শুধুমাত্র মিডিয়ার পর্দায় বিখ্যাত হওয়ার জন্য একটা লেখক বই লেখেন? এটা কী লেখকের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত? এভাবে কী মানুষের মনে সত্যিকারের লেখক হিসেবে স্থান পাওয়া যায়?
ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ঠিক যেই বইমেলায় যেতাম, আজও আমি, আমরা সকলেই আবার ঠিক সেই বইমেলাকে ফিরে যেতে চাই, যেখানে থাকবে না কোনো লেখক প্রতিযোগিতা, বইয়ের বিনিময়ে কেন অর্থের প্রতিযোগিতা হবে?
বই প্রেমিক, বই পড়ুয়ারা খুজেঁ পাবে তাদের প্রাণের প্রিয় বইমেলাকে।
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে হ্যালোডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে, প্রকাশকাল: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

Winner 
attended workshop on Training on Techniques of Child Participation in Electronic Media’ & `Follow up Training and Mentoring of Children Participating in Electronic Media(Part-I & II)’ under the `Advocacy and Communication for Children and Women (4th Phase) project held at Dhaka from arranged by National Institute of Mass Communication, Dhaka, Ministry of Information.
